নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ অক্টোবর, ২০২৫, 6:55 PM
নারীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যাপন করে আজ ঢাকায় শুরু হলো দুই দিনব্যাপী ‘হারআইজন ফেস্ট ২০২৫: সেলেব্রেটিং ওমেন, স্কিলস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট’। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর উদ্যোগে এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (জিআইজেড)-এর কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত এই উৎসবের লক্ষ্য— দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীর অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তাদের মূল বক্তব্য
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অবদান এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেন।
প্রধান অতিথির আহ্বান: নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ চাই
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন কেবল প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে নয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন:
নারীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের জন্য ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে তারা সুরক্ষা ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
পোশাক খাতে নারী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন, যা সামাজিক পরিবর্তনেও অবদান রাখছে।
বিশেষ দূত: নারী উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় নারীরা কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং অন্যতম চালিকাশক্তি। তিনি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জার্মানির আশ্বাস: সহযোগিতা থাকবে অব্যাহত
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন সফল হবে শুধুমাত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। তিনি আশ্বাস দেন, বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে জার্মানির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এনএসডিএ’র লক্ষ্য: ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, এনএসডিএ নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাজারমুখী দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ শিল্প, কেয়ার ইকোনমি ও সৃজনশীল খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির রূপরেখা তৈরি হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মোঃ সাইফুল্লাহ পান্না এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শোয়াইব আহমাদ খানও নারীর শ্রমশক্তির গুরুত্ব এবং তাদের সম্পৃক্ততা জিডিপি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।
উৎসবে অংশগ্রহণ ও কৌশল নির্ধারণ
উদ্বোধনী দিনের ইন্টারঅ্যাকটিভ কর্মশালাগুলোতে জেন্ডার-সেন্সিটিভ সক্ষমতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং সুবিধাবঞ্চিতদের সমান সুযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এই বিষয়গুলো এনএসডিএ-এর অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই উৎসবে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, বেসরকারি খাত ও শিল্প দক্ষতা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, নারী নেটওয়ার্কসহ ৪৫০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, জার্মানি এবং ইউনিসেফের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা তাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা এনএসডিএ-কে তরুণ, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোর কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ অক্টোবর, ২০২৫, 6:55 PM
নারীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যাপন করে আজ ঢাকায় শুরু হলো দুই দিনব্যাপী ‘হারআইজন ফেস্ট ২০২৫: সেলেব্রেটিং ওমেন, স্কিলস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট’। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর উদ্যোগে এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (জিআইজেড)-এর কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত এই উৎসবের লক্ষ্য— দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীর অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তাদের মূল বক্তব্য
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অবদান এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেন।
প্রধান অতিথির আহ্বান: নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ চাই
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন কেবল প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে নয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন:
নারীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের জন্য ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে তারা সুরক্ষা ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
পোশাক খাতে নারী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন, যা সামাজিক পরিবর্তনেও অবদান রাখছে।
বিশেষ দূত: নারী উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় নারীরা কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং অন্যতম চালিকাশক্তি। তিনি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জার্মানির আশ্বাস: সহযোগিতা থাকবে অব্যাহত
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন সফল হবে শুধুমাত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। তিনি আশ্বাস দেন, বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে জার্মানির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এনএসডিএ’র লক্ষ্য: ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, এনএসডিএ নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাজারমুখী দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ শিল্প, কেয়ার ইকোনমি ও সৃজনশীল খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির রূপরেখা তৈরি হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মোঃ সাইফুল্লাহ পান্না এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শোয়াইব আহমাদ খানও নারীর শ্রমশক্তির গুরুত্ব এবং তাদের সম্পৃক্ততা জিডিপি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।
উৎসবে অংশগ্রহণ ও কৌশল নির্ধারণ
উদ্বোধনী দিনের ইন্টারঅ্যাকটিভ কর্মশালাগুলোতে জেন্ডার-সেন্সিটিভ সক্ষমতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং সুবিধাবঞ্চিতদের সমান সুযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এই বিষয়গুলো এনএসডিএ-এর অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই উৎসবে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, বেসরকারি খাত ও শিল্প দক্ষতা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, নারী নেটওয়ার্কসহ ৪৫০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, জার্মানি এবং ইউনিসেফের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা তাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা এনএসডিএ-কে তরুণ, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোর কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করবে।